কুমার দীপ

নিয়ম করে খাওয়া, খাওয়ার আগে-পরে ক্যাপসুল-ট্যাবলেট; ফ্লুপেনথিক্সল আর মেলিট্রাসেলের কম্বিনেশনটা আবার বিকেলেই মনে করে খাওয়া। আর যে-কোনো খাবারের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার সেই প্রেশারের বড়িটা…

প্রথম প্রথম আপত্তি করতেন মা, মাঝে মাঝে বিরক্তির ঝালর ঝুলিয়ে বলতেন—ওসব ওষুট-টোষুধ থাক, আর বাঁচতে হবে না।

এখন তো পনেরো বছর হলো…

প্রথমদিকে যখন উহান; তারপর ইতালি-ফ্রান্স-স্পেন-আমেরিকা…, ঘুম হতো না রাতে; টিভি চ্যালেনগুলোকে মনে হতো মৃত্যুর ধারাভাষ্য; স্টেডিয়ামে ফুটবল-ক্রিকেট নয়, মৃত্যুর সাথে খেলছে মানুষেরা; খবরের বোতামগুলো বন্ধ রেখে সিনেমা-সঙ্গীত কিংবা বইয়ের পাতায় খুঁজতে চেয়েছি নীড়…

গত চব্বিশ ঘন্টায় এতো হাজার আক্রান্ত, মৃতের সংখ্যা এতো, মোট আক্রান্ত এতো লক্ষ… … ; সাত মাস ধরে এসব শুনতে-শুনতে, দেখতে-দেখতে; চেনা-জানা লোকজনের উধাও হওয়ার খবর নিতে নিতে, আকাশ থেকে একের পর এক তারাদের খসে পড়ার সংবাদ পেতে পেতে…

এখন আর বিশেষ অসহনীয় মনে হয় না কিছু; বুকের উপরে পাথর হয়ে চেপে বসা মৃত্যুভয়, মাথার গিটারে বাজতে থাকা নরক-সানাই…
এসব আর মুষড়ে দিতে পারে না এন্তার…

তাহলে কি উপভোগ করতে শিখেছি এই গরল-সাগর, ক্রুশবিদ্ধ জীবনের ‘ফান’ ?
দুগ্ধপোষ্য শিশু যেমন ধীরে ধীরে শিখে নেয়— নরখাদকের গান ?